সাগরকন্যা কুয়াকাটা, অপরুপ সৌন্দর্যের হাতছানি || Tour Team BD

ট্যুর টিম (Tour Team) :  বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে সাগরকন্যা খ্যাত অপরূপ এক জায়গা কুয়াকাটা। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপালী ইউনিয়নে অবস্থিত এ জায়গায় আছে বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার মতো জায়গা দ্বিতীয়টি আর এদেশে নেই। অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কুয়াকাটায় আছে বেড়ানোর মতো আরও নানান আকর্ষণ। আর আজকে আমাদের যাত্রা কুয়াকাটা। ভ্রমণের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরছেন আবদুর রহমান। https://www.facebook.com/regal.abdurrahman
ছবি সংগৃহীত
আমরা চার বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করি কুয়াকাটা যাওয়ার। প্রথমেই আমরা সদরঘাটে সবাই একত্র হই। সদরঘাট থেকে রাত ৯ টা বাজে লঞ্চ ''সুন্দরবন ১১''তে করে আমরা বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। কিন্তু কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য আমাদের পটুয়াখালীর লঞ্চে যাওয়ার উচিত ছিল। কারণ বরিশাল দিয়ে গেলে খরচটা একটু বেশি পড়ে যায় যা আমরা যাওয়ার পরে বুঝতে পারি। চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে কথাটা আমরা পরে ভালোভাবেই টের পাই। যাইহোক রওনা যখন দিয়েই দিলাম তখন তো আর ব্যাক করা সম্ভব না। সারারাত মজা আড্ডা, গানে ও গল্পে ভোর ৪টায় পৌছাই আমরা বরিশাল লঞ্চর্টামিনালে। ঢাকা টু বরিশাল লঞ্চের টিকেট ২৫০টাকা।
লঞ্চে আমরা-ট্যুর টিম বিডি, বামে থেকে, রিগেল, সজীব, ইমরান, ইয়াসিন।
বরিশাল লঞ্চটার্মিনাল থেকে আমরা অটোরিক্সায় করে জন প্রতি বিশ টাকা দিয়ে রুপাতলী বাস স্ট্যান্ড আসি। সেখানে আমরা সকালের নাস্তা সেরে ফেলি। তার পর রূপাতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। কিন্তু বাসে উঠার পর আমাদের বাসে বসার তো জায়গা নাই, দাঁড়ানোর ও জায়গা নেই এই অবস্থা। বিশেষ কারণে সেদিন ছিলো পরিবহন ধর্মঘট। কোনো বাস ছিলো না। একটি বাস যাবে তবে রিস্ক নিয়ে। আমাদের আর কোনো উপায় ছিলো না, অতপর সেই বাসেই আমরা উঠে ২৫০টাকা জন প্রতি ভাড়া দিয়ে। তবে আমরা চারজন কোনরকমে বসতে পারছি বাসে। বাসে উঠার পর এখজনকে দেখতে পাই যিনি লঞ্চে আমাদের যাওয়ার রাস্তা বলে দিয়েছিলেন। তিনি আমাদের তার আত্মীয় বলে সম্বোধন করান বাস কন্টাক্টরের সাথে। তাই সিট পেতে অসুবিধা হয় নি। সারারাত তো চারজনের একজনও ঘুমাই নাই, কিন্তু বাস যখন ছাড়লো তখন আমাদের সবার চোখে ঘুম। তবে অতিরিক্ত যাত্রির কারণে গরমে ঘুম ঠিক ভাবে আসছিল না। পরে যখন ফেরি পার হব তখন আমরা বাস থেকে নেমে দাড়াই। পরে আমরা ২জন আর বাসের ভিতরে ঢুকি নাই। সোজা বাসের ছাদে।


চলন্ত বাসের ছাদে। ছবিতে রিগেল আর সজীব, সাথে এক মুরুব্বি চাচাও আছে।
আরো অনেক যাত্রিও ছিল। আমাদের বাকি দুইজন বাসে ঢুকে নাক ডেকে ঘুম। বাসের ছাদে উঠে আমরা অনেক মজা করি, আশেপাশের গ্রাম গুলোর ছবি তুলি, নিজেদের সেলফি তুলি। ছবি তোলার সময় পিছনের চাচাজানও একটা পোজ দিলেন।


কলাপাড়া পৌঁছানোর পর সেখান থেকে একটা অটোতে করে সোজা কুয়াকাটা পৌঁছে যাই। তবে যাওয়ার পথে দুজনেই বন্ধুসুলভ বড় ভাইয়ের সাথে দেখা হয় যারা আমাদের মত ঘুরার পাগল। তারাও কুয়াকাটা যাবে। খুবই চমৎকার মনের মানুষ ২জন। পুরা কুয়াকাটা সফরে ওনারা আমরা একসাথেই ছিলাম।


কুয়াকাটা সাগর পাড়ের রাস্তায়। এক পাশে হোটেল আর অন্য পাশে সাগর।
আমরা সবাই মিলে একই হোটেলে থাকার সিদ্ধান্ত নেই। তারপর ১বড় ভাই মিলে ৩জন গিয়ে দামাদামি করে রুম ঠিক করে আসলেন। "হোটেল বেঙ্গল" এ ডাবল বেড ৮০০টাকা করে। বীচ এর পাশেই হোটেল। আমাদের বাজেটের মধ্যে এই হোটেলটা ভালই।

কুয়াকাটায় ঘুরাঘুরি করার মত কয়েকটা সুন্দর জায়গা রয়েছে, চলুন বিস্তারিত বলছি.........

কুয়াকাটার কুয়া:
ছবি: সংগৃহীত।
কুয়াকাটা নামকরণের ইতিহাসের পেছনে যে কুয়া সেটি এখনও টিকে আছে। তবে কয়েক বছর আগে অদূরদর্শী ও কুরুচিকর সংস্কারের ফলে এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছে রাখাইনদের বাসস্থল কেরাণিপাড়ার শুরুতেই প্রাচীন কুয়ার অবস্থান।


জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তার এখানে একটি কূপ খণন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি কুয়াকাটা নামে পরিচিতি পায়।

শুঁটকি পল্লী:
ছবি: সংগৃহীত।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে আছে জেলে পল্লী। এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে।

আসুন আবার ট্যুরে ফিরি..... 
আমরা হোটেলে গিয়ে প্রথমে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেই। আমাদের মধ্যে ১জন ক্লান্তিতে বলেই ফেলছে হোটেলের বাথরুমেই গোসল করে ফেলি। আমরা হাসতে হাসতে বললাম, কুয়াকাটা সৈকতে আসলাম কি বাথরুমে গোসল করতে? যাই হোক মজা করতে করতে বড় ভাইরাসহ আমরা ৪জনই বীচে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হোটেল থেকে বের হই। কিছু খেতে ইচ্ছা ছিলো না কারো সাগরের ঢেউ দেখে। সাগরের ঢেউ ছিল অনেক তাই আর সমুদ্রে গোসলের লোভ কেউ সামলাইতে পারি নি। রুম থেকে রাস্তায় উঠতেই বীচের ঠান্ডা মনমুগ্ধকর বাতাসে আমাদের মন জুরায় যায়। সত্যিই এত ঠান্ডা বাতাসে আমরা রোদের তাপ টের পাই নি। বীচে যখন যাবই তাহলে শরীর একটু চাঙা করে যাই কি বলেন? তাহলে সাগরের পানিতে বেশি বেশি লাফানো যাবে। তাই রাস্তার পাশেই চায়ের দোকান থেকে আমরা হালকা চা নাস্তা করে নিলাম সবাই।
ক্যামেরার পিছনে সাগর কন্যা কুয়াকাটা।
চা খাওয়া শেষে করে আমারা সবাই এক দৌড়ে সাগরে গিয়ে পরি। প্রাণ ভরে সাগর কন্যা কুয়াকাটার অপরুপ রুপে বিভোর থাকি।
সাগরে একসাথে দৌড়ে নামার সময়।
প্রায় ২ ঘন্টা সাতার কাটার পর হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে আমরা কিছুটা ভরি খাবার খেয়ে নেই। তারপর সবাই একটা ঘুম। একেতো সবাই রাত জাগা পাখি অন্যদিকে বিশ্রাম না নিয়ে ইচ্চেমত গোসল। সবাই খুবি ক্লান্ত।
গোসলের সময়।
ঘুম থেকে আমরা সকলেই বিকাল ৫টা বাজে উঠে যাই। সবার চোখে মুখে পারফেক্ট ঘুমের খুশি ভাসতেছে। ইতোমধ্যেই ভাইয়া এসে বলল যে এখম উঠো আমরা বিকালটা বীচে কাটাই চল। এই বীচ থেকেই সূর্যাস্ত দেখা যায়। তাই আমরা সবাই বিকেলটা বীচে উপভোগ করলাম। তারপর সন্ধ্যায় সবার ক্ষিদে লাগে খুব, তাই আমরা একটা হোটেলে ঢুকে ভাত খেয়ে নেই। একটা জিনিস মনে রাখা ভাল, এখানে বিচের পাশে যে হোটেল আছে তার খাবার মোটামোটি ভালই এবং দাম খুবই কম। আর রাস্তার পরে বা একটু ভিতরের হোটেল গুলোতে খাবারের দাম অনেক বেশি। খাওয়া পর্ব শেষ করে আমরা সবাই বীচে  গিয়ে আড্ডা দেই। বীচে বসে বসে রাতের সাগর উপভোগ করা সত্যিই অসাধারণ। সবাই একসাথে গল্প করা, গান গাওয়া, সাগরের পানিতে পা ভিজানো, এগুলো শুধু সেখানেই উপভোগ করা যায়। আড্ডা শেষে আমরা পরের দিন সূর্যোদয় দেখার প্ল্যান করি। আমাদের ভোরে উঠে বিচের এক পাশ থেকে দেখা যায়। আমরা রাতে খাওয়া দাওয়া করে সবাই আবার রুমে ফিরি। পরের দিন ভোরে উঠতে হবে তাই একটু তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পরি।
ছবি: সংগৃহীত।
সূর্য় দেখা:
দ্বিতীয় দিন খুব ভোরেই আমরা উঠে রওনা দিয়ে দেই সূর্যোদয়  দেখার জন্য। আমরা হোটেল থেকে বের হতেই অনেক গুলো হোন্ডা দেখতে পাই। এই সাগরকন্যায় অজস্র হোন্ডা থাকে, এগুলো ভাড়ায় চালিত। আমরা ২টা হোন্ডায় করে হোটেল থেকে একটু দূরে যাই যেখান থেকে সূর্যোদয় আরো স্পস্ট দেখা যায়। ভাড়া ছিল ৫০টাকা একজন। আমরা গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি কখন সূর্য উঠবে তার অপেক্ষায়। আমাদের মত আরো শত শত মানুষ আপেক্ষায় আছে সূয্যিমামার দেখা মিলতে। সবাই যার যার মত করে দেখার জন্য প্রস্তুত। অনেকেতো পানির মধ্যে গিয়েও দাঁড়িয়ে ছিল দেখার জন্য। সবাই ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত এই মুহূর্তটাকে স্মৃতি বন্ধি করে রাখতে। কিন্তু দূর্ভাগ্য হায়ঃ যখন সূর্য উঠবে তখনই আকাশ মেঘে ঢেকে গেছে। সূর্য উঠার প্রায় ১৫-২০মিনিট পর সূর্য আমাদের চোখে পড়ে। আমরাসহ এখানে যারা আসে সুর্যাস্ত দেখার জন্য তারা সবাই খুব হতাশ।


সূর্য উদয় দেখতে হাজারও ভ্রমণ পিয়াসুরা।
দূঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা হেটেই হোটেলে যাওয়ার জন্য রওনা দেই। সাগর মানুষের মন ভাল করে দেয় কথাটা মিথ্যা না। আমরা আসতে আসতে খুব মজা করি। একপাশে সাগর ঠিক তার উল্টো পাশে সবুজের সমারোহ। গাছপালায় ঘন জঙল। প্রায় ২ঘন্টা হেটে হেটে হোটেলে পোছাই। সকালের নাস্তা করে একটু সাগরে উকি দেই, দেখি কোন ঢেউ নাই। বুঝতে পারি এখন ভাটা চলতেছে। তাই আমরা আর তখন গোসল করি না। সোজা রুমে চলে যাই।

লাল কাঁকড়ার দ্বীপ:

কুয়াকাটা থেকে ফাতরার চরের দিকে যেতে হাতের ডান পাশে পড়বে এই দ্বীপ, এখানে ভোর সকালে আসলে লাল কাঁকড়ার মিছিল দেখা যাবে, আবার গঙ্গামতি চরের পূর্ব পাশেও লাল কাঁকড়া অবাধে ঘুরে বেড়ায়। তাদের সাথে সাক্ষাতের সময় ঐ একটাই - প্রথম ভোরে...
লাল কাকড়ার দ্বীপ- ছবি: সংগৃহীত।
লাল কাঁকড়ার দ্বীপে ভোরে বা সকালে গেলে লাল কাঁকড়ার দেখা পাওয়া টা কষ্টকর। সূর্যের তাপে বালু উত্তপ্ত হয়ে গেলে কাঁকড়া রা বাইরে বের হয়ে আসে। তাই, সকাল ১১ টার দিকে গেলেই শজে লাল কাঁকড়ার দৌড়া দৌড়ি উপভোগ করতে পারেন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পুরো দ্বীপটি লাল হয়ে আছে। 


তবে খেয়াল রাখবেন, আপনার উপস্থিতি যেন কোন ভাবেই তাদের কে ক্ষতিগ্রস্থ না করে।

বৌদ্ধমন্দির ও রাখাইন পল্লী:


কুয়াকাটার খুব নিকটেই অবস্থিত মিস্ত্রিপাড়া। এখানেই দেখতে পাবেন আপনি বৌদ্ধ মন্দির যেখানে রয়েছে প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার একটি বুদ্ধমূর্তি।
বৌদ্ধমন্দির - ছবি সংগৃহীত।
আর পাশেই রয়েছে পবিত্র কুয়া। মন্দির আর পবিত্র কূয়া দেখে আপনার ভাল লাগবে এটা বলা যায় অবলিলায়। বৌদ্ধ মন্দিরের সাথে আপনার জন্য আর একটি জিনিস অপেক্ষা করবে, আর সেটা হলো রাখাইন পল্লী। রাখাইন উপজাতীদের আবাসস্থল এখানে। আপনি এই পল্লী ঘুরে দেখে নিতে পারেন তাদের জীবন যাবন আর হাজার পণ্যের পসরা। রাখাইন মেয়েদের নিজের হাতে বুনানো কাপড় আপনাকে নিঃসন্দেহে প্রলুব্দ করবে তা কিনে নিত। এই স্থানটি ভ্রমন করে পরম তৃপ্তি নিয়েই আপনি বিকেলে আগে ফিরে যেতে পারেন কুয়াকাটা সৈকতে।


ফাইল ছবি।
সন্ধ্যায় আমরা যাই জেলেপাড়ায়। সেখানে বিভিন্ন রকম সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করে। আমরা গিয়ে কে কোন মাছ খাবে সেটা বাছাই করে। এখানে অবশ্য ভাল ভাল মাছই পাওয়া যায় কম দামে। যেমন টোনা মাছ, চিংড়ি, রুপচাদা, লইট্টা, কাকড়া এসব এখানের বিখ্যাত।
টোনা, চিংড়ি ও কাকড়া। ছবি: রিগেল।
চাইলে আপনি নিয়ে গিয়ে নিজে রান্না করে অথবা বার বি কিউ করে খেতে পারেন। অথবা বললে তারাই বার বি কিউ করে দিবে। তারা বার বি কিউ করে দিলেও সেটা মজা হয়, সাথে কয়েকটা সস নিয়ে খেলে খুবই মজা লাগে। আমরা সবাই টোনা, কাকড়া, চিংড়ি, অর্ডার করি।
খাওয়ার পূর্বে - ছবি ইয়াসিন।
মজা করেই খাই সবাই। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা আবার বীচে যাই। বীচে গিয়ে দেখি সাগরে অনেক ঢেউ। জোয়ার এর সময় এখন। একবন্ধুকে কোলে নিয়ে পানিতে চুবিয়ে আবার উঠাই। আবার চুবিয়ে আবার উঠাই।

সবাই মজা নিলো আমাদের কাণ্ড দেখে। আমরা তখন গোসলটা করে ফেলি। ভালই লাগলো কারণ সাগরের ঢেউ আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে। বাতাসতো ছিলই। আমরা হাটতে হাটতে গান গাইতে গাইতে হোটেলের দিকে ফিরি। চিৎকার করে গাওয়া আমাদের গান বাতাসে বাতাসে মিলিয়ে যায়। রাতে হোটেলে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে আমরা রাতের খাবার খেতে বের হই। খাওয়া শেষে আমরা রুমে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ি।

লেবুচর ও ফাতরার বন:


সৈকতে গেলেই দেখেতে পাবেন অনেক মটরসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়। নিজে চালাতে পারলে মটরসাইকেল চালিয়ে চলে যেতে পারেন লেবুচর। ভাটার সময় মটর সাইকেল নিয়ে সৈকত ধরেই চলে যেতে পারবেন লেবুচর। সে এক অভাবনীয় অনুভূতি। লেবুচর থেকে খুব কাছেই ফাতরার বন। বলা হয়ে থাকে এই ফাতরার বন থেকেই শুরু সুন্দরবনের সীমানা। সুতরাং যাদের সুন্দরবন দেখা হয়নি তারা ইচ্ছা করলে ঘুরে আসতে পারেন ফাতরার বন। সেখানে যেতে চাইলে সৈকত থেকে ট্রলার ভাড়া করে যেতে হবে। আর এই ভ্রমণটি হবে আপনার জন্য একটি রোমাঞ্চকর ভ্রমণ। আপনার ট্রলারটি যখন সমুদে্রর সাদা ঢেউ কেটে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে মনে হবে যেন সিনেমার কোন স্বপ্ন দৃশ্য পাড়ি দিচ্ছেন।


টানা দেড় ঘন্টা ট্রলার চালিয়ে গেলে আপনি পৌছে যাবেন ফাতরার বন। এখানে পর্যটকদের আনাগোনা খুব একটা নেই। আর এখানে স্থানীয় লোকজনও খুব একটা দেখা যায় না। ফাতরার বনে নামলে পরে আপনার চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল লম্বা বন-জঙ্গল। অনেকের মনে হতে পারে আপনি সুন্দরবনে এসে নেমেছেন। আসলে এটি আমতলী ফরেষ্ট রেঞ্জ। এখানে একটি বাংলো আছে আর পাশেই রয়েছে একটি সুন্দর পুকুর। এখানে বন্যপ্রাণীর বিচরণ নেই বললেই চলে। তবে পাখির কুহুতান হতে আপনি বঞ্চিত হবেন না এটা নিশ্চিত বলা যায়। 


বনের গভীরে চলে গেছে নদী। আপনি ইচ্ছিা করলে ট্রলার নিয়ে আরো গহীনে যেতে পারেন। তাতে আপনার অবিজ্ঞতার ঝুলি কিছুটা হলেও বাড়বে। গহীনের নিস্তব্দতা আপনাকে আরো আপ্লুত করবে।
ছবি: সংগৃহীত।
তৃতীয় দিন সকালে ফ্রেশ হয়ে নাস্তার পর্ব শেষ করে আমরা সৈকতে চলে যাই গোসল করতে। প্রথমে কিছুক্ষণ মজা করি। কেউ হোন্ডা চালায়, কেউ ঘোড়ায় চড়ে। সেখানে ডিএসএলআর নিয়ে অনেক মানুষ ছবি তুলে দেয়, টাকার বিনিময়ে। আমরা মজা করতে করতে কিছু ছবিও তুলি। পরে গোসল করে নেই। সাগরের ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে সকলেই হুরোহুরি লাফালাফি করে গোসল করে।

গোসল শেষে আমরা দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে শেষ বারের মত ফটোশুট করে নেই। বিকেল পর্যন্ত আমরা ছবি তুলি। ছবি তোলা শেষে আমরা সবাই আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই।


শেষ সময়ে ফটোশুট- কিছুক্ষণ পরে ডুবে যাবে সূর্য।
খাবার দাবার এর তথ্য:

এখানকার খাবার খুবই বাজে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। তবে সী-বিচের খুব কাছে একটা হোটেলগুলো খাবার রীতিমতন মুগ্ধকর, দামও কম।  বেড়িবাধের উল্টা পাশের (শহর সাইডের) খাবার না খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এখানকার চটপটি খুবই ভালো।

পরামর্শ ও করণীয়:

১) দল বেঁধে গেলে খরচ অনেক কম হবে।
২) ভারী জামা কাপড় না নেওয়াই ভালো। ব্যাগ যগ ছোট হবে ঘুরতে ততো মজা লাগবে।

৩) চলার সময় নিরবতার সাথে পথ চলুন। হৈ চৈ করা থেকে বিরত থাকুন।

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। ভ্রমণ করতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা, শুকনো খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল/জার, কলার খোসা ইত্যাদি ফেলা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকবো। এগুলো আমাদের পরিবেশ দূষণ করার সাথে সাথে আমাদের ভ্রমণের জায়গাগুলোও নষ্ট করছে। সবাইকে অনুরোধ করছি, আমরা আমাদের পরিবেশ দূষণ করবো না। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।


আপনিও লিখতে পারেন আমাদের কাছে। আমরা অতি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরবো আপনার ভ্রমণ কাহিনী।

Tour Team BD (ট্যুর টিম) আসছে এমন সব স্থানের ভিডিও সহ গল্প নিয়ে। দেখার জন্য সাথেই থাকুন। ভালো লাগলে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ। 

Post a Comment

Previous Post Next Post