রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে পিটিয়ে ও মাথা থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।এসময় তারা হত্যাকারী যুবদল নেতাদের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানায়।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত ১০.৩০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম হল বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মালেক হল,খাদিজা হল, জুলাই স্মৃতি হল প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে মিছিলটি শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ ; যুবদলের চাঁদাবাজরা, হুশিয়ার সাবধান; যুবদলের সন্ত্রাস, রুখে দেবে ছাত্রসমাজ ; বিএনপির সন্ত্রাসিরা, হুশিয়ার সাবধান; আমার ভাই মরলো কেনো তারেক রহমান জবাব দে; মিটফোর্ডে খুন কেনো তারেক রহমান জবাব দে; সারা দেশে সন্ত্রাস কেনো বিএনপি জবাদ দে,ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জানে আলম বলেন, "আমরা জুলাইয়ে রক্ত দিয়ে দেশ থেকে স্বৈরাচার পতন করেছি। যদি আবারও কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাড়ায় আমরা প্রয়োজনে আবার রক্ত দিবো। তারপর কোনো চাঁদাবাজদের হাতে আমাদের দেশ তুলে দিবো না।"
বিক্ষোভে ওশনোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী ময়ূরি নূ্র বলেন, আমরা জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছে প্রয়োজনে আবার দিবো এ কথাটির সাথে দ্বিমত পোষণ কর়ছি।কারণ আমাদের জানের মূল্য আছে আমরা বারবার রক্ত দিবো না, রক্ত দেয়া ছাড়াই রাষ্ট্রের উচিৎ আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন রাব্বি বলেন, "আমরা আজ চরম শোক ও লজ্জার সাথে এখানে একত্রিত হয়েছে।আমরা তো এমন স্বাধীনতা চাইনি। যেখানে বারবার রক্ত দিতে হবে। দেশকে সুন্দর করে সাজাতে হবে, সংস্কার না করে নির্বাচনের কথা চিন্তা করা যায় না। কোনো দখলদার, চাঁদাবাজদের হাতে দেশকে তুলে দিব না।"
প্রসঙ্গত, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী সোহাগ নামের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশের উপর নৃত্য করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে যুবদল নেতা মঈনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
