বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেখতে হাসপাতালে যাবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়া জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মঞ্চে পড়ে যান জামায়াত আমির। দুই দফায় অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মঞ্চ বসে বক্তব্য দেন তিনি।
সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমানকে ধানমন্ডির ইবনে সীনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এসময় জামায়াত আমির বলেন, জীবন থাকা পর্যন্ত এদেশের জন্য কাজ করে যাব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো চাঁদাবাজি হবে না, দুর্নীতি হবে না। চাঁদা আমরা নেব না, চাঁদা আমরা দেব না।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমার দুর্ভাগ্য আমি আন্দোলনে শহীদ হতে পারি নাই। আগামীতে যে আন্দোলন হবে আল্লাহ যেন সেখানে আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।
তিনি বলেন, এখন থেকে বাংলাদেশে পুরোনো কোন কিছুই থাকবে না। পুরোনো এই বস্তা পচা জিনিস যদি এই দেশে থাকে, তাহলে কেন এত লোক জীবন দিল।
শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর দুইটায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সমাবেশ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম এককভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করছে দলটি।
এর আগে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয়। প্রথম পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিল্পী সাইফুল্লাহ মানসুর।
সকালে সমাবেশমঞ্চে এসে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর শুকরিয়া। আমাদের জাতীয় সমাবেশ ইতোমধ্যে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন তিনি। আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের দোয়া করেন। ’
এদিকে সাত দফা দাবিতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে জনতার ঢল নেমেছে। সমাবেশ শুরুর অনেক আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে নেতাকর্মীদের ভিড় রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকা ছাপিয়ে যায়।
জামায়াতে ইসলামীর ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।
