গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার চরশাখচূড়া ও দিঘীরপাড় গ্রামে গতকাল একই সময়ে নিখোঁজ হয় দুই শিশু—সিফাত (১১) ও সাদাব (৪)। একদিন পর সিফাতের মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে ছোট্ট সাদাব।
শনিবার সকালে চরশাখচূড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে সিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পাগলা থানা পুলিশ।
নিহত সিফাত সৌদি প্রবাসী নূরুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে দেখেছে—ফোনগুলো ফরিদপুর ও ঢাকার ধামরাই থেকে করা হয়।সকালে এলাকাবাসী মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সিফাতের মা সাবিনা খাতুন বলেন,
“আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। এলাকার আরমান আমার মেয়েকে উত্যক্ত করতো, সে কয়েকদিন আগে হুমকিও দিয়েছিল। আমি এর বিচার চাই।”অপরদিকে, একই দিন নিখোঁজ হওয়া শিশু সাদাব এখনও নিখোঁজ। সে দিঘীরপাড় গ্রামে মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে থাকতো। পরিবারের অভিযোগ, সকালে ঘর থেকে খেলতে বের হয়ে আর ফেরেনি।
রাতেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে প্রথমে ২০ হাজার, পরে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তারা ২৮ হাজার টাকা পাঠালেও সাদাবকে ফেরত পায়নি।
পাগলা থানার ওসি মো. ফেরদৌস আলম জানান,
“সিফাতের ঘাড় মটকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। অপর শিশুটির সন্ধানে অভিযান চলছে।”জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম বলেন,
“মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”👀 সতর্কতা:
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
