জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঐতিহাসিক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রায় ঘোষণার পরপরই মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে,উৎফুল্লতা, স্বস্তি, সতর্কতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের কোটি মানুষের মতো আমরা মালয়েশিয়া প্রবাসীরাও অত্যন্ত উৎফুল্ল। বিচারক, প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে তার।
এ বিষয়ে তারা আরও বলেন, গত আওয়ামী সরকারের তিন অবৈধ সংসদের এমপি-মন্ত্রীরা যারা জবরদখলকারী সরকারকে সহায়তা করে গুম-খুনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনা হোক। আন্তর্জাতিক আদালত আজ ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে। যা বৈশ্বিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই রায় শুধু একজন ব্যক্তির বিচার নয়; এটি বাংলাদেশের নতুন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো গঠনের পথ খুলে দিয়েছে। বিচারহীনতার অধ্যায় শেষ। এবার জবাবদিহিতা, মানবিকতা ও ইনসাফের নতুন যাত্রা শুরু।
প্রবাসীরা বলেন, এই রায় দেখে মনে হচ্ছে, আর কেউ যেন জনগণের ওপর গুলি চালাতে সাহস না পায়। দেশের মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বলে উঠেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ভবিষ্যৎ শাসকদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। ক্ষমতার অপব্যবহার, গুম-খুন, নির্যাতন—কিছুই আর অদণ্ডিত থাকবে না। তবে অনেকেই সতর্ক করেছেন, বিচার যেন রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।
Tags
News
