মায়ানমার সীমান্তঘেঁষা সেন্টমার্টিন দ্বীপ এর আকাশে অজ্ঞাত উৎসের ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বীপের জেটি এলাকার পূর্ব আকাশে লাল ও সবুজ বাতি জ্বালানো দুটি ড্রোন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চক্কর দিতে দেখা যায়। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও তৈরি হয়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, “রাতের ওই সময়ে জেটির পূর্ব দিকে দুটি ড্রোন দেখা গেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি নজরদারির অংশও হতে পারে।
তিনি ধারণা করেন, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে থাকতে পারে।
দ্বীপের জেলে হাফেজ আহমদ বলেন, ড্রোন দেখার পর স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মায়ানমার সীমান্তে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের অজ্ঞাত ড্রোন চলাচল নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ড্রোনগুলোর প্রকৃত উৎস শনাক্ত এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ভিন্ন মতও রয়েছে। সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আইনজীবী এম কেফায়েত উল্লাহ বলেন, “ড্রোনটি মায়ানমারের হওয়ার সম্ভাবনা কম। অনেক সময় পর্যটক বা কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ভিডিও ধারণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করে থাকেন।
সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ছে, ফলে এ ধরনের ড্রোন দেখা যাওয়াকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রোন ব্যবহারও বেড়েছে, যা ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বিজিবি বা কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
