অনেকটা পেন্সিলে আঁকা ছবির মতো ছোট্ট কিন্তু বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি শহর রাজশাহী! শহরটির বাড়িগুলো আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকা নয়, প্রতিটা রাস্তাই যেন আলাদা আলাদাভাবে সাজানো। রাস্তায় নেই যানজট, কোলাহলের মাত্রাটাও নগন্য। রাজশাহীর সিল্ক দেশের সুনামের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পরেছে সারা বিশ্বে, আছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানও।
রাজশাহী ঘুরে দেখতে চাইলে লেখাটি আপনার সহায়ক হবে-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষানগরী রাজশাহীর অন্যতম বিদ্যাপীঠ হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক ছায়াঘেরা এই বিশ্ববিদ্যালয় যেকারোরই মন কেড়ে নিবে। রাজশাহী শহরের প্রবেশমুখে মহাসড়কের পাশেই বিনোদপুর নামক স্থানে এর অবস্থান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
পদ্মার পাড়
রাজশাহী শহর পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত। তাই শহরের মানুষ একটু সময় পেলেই ছুটে যায় পদ্মার পাড়ে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পদ্মার পাড়কে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে যাচ্ছে। বড়কুঠি এলাকা, পদ্মা গার্ডেন, লালনশাহ মুক্ত মঞ্চ, আই বাঁধ, টি-বাঁধ, শিমলা পার্ক, সিমান্তে নোঙ্গর তারই ফসল। এজন্য দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে রাজশাহীর পদ্মার পাড় একটু ভিন্নভাবে গড়ে উঠছে।
পুঠিয়া রাজবাড়ী
বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি অন্যতম। ১৮৯৫ সালে মহারানি হেমন্তকুমারী দেবী ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে আয়তাকার দ্বিতল রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। যেখানে গেলে আপনি পেয়ে যাবেন ইতিহাসের ছোঁয়া। রাজশাহী জেলা সদর হতে ৩২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নাটোর মহাসড়ক অভিমুখে পুঠিয়া অবস্থিত।
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
দেশের প্রথম ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাদুঘর এটি। বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির একটি বড় অর্জন বলা হয় একে। শরৎকুমার রায় এবং তার সহযোগী অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, রমাপ্রসাদ চন্দ প্রমুখ প্রত্ন-অনুরাগী এই প্রতিষ্ঠান দুটি গড়ে তোলার জন্য তারা তাদের সময় ও শ্রম ব্যয় করেন। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহের দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংগ্রহশালা। রাজশাহী জিরোপয়েন্ট থেকে রিকশা ও অটোতে যাওয়া যায়।
বাঘা মসজিদ
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অন্যতম নিদর্শন রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ। শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত মসজিদটি। ১৫২৩-১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের ছেলে সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের পাশে রয়েছে বিশাল এক দিঘী, সেটাও দেখার মতো।
এছাড়াও রয়েছে শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, হযরত শাহমখদুম বিমানবন্দর, গোয়ালকান্দি জমিদার বাড়ি, হাওয়াখানা, তুলসি ক্ষেত্র, সরমংলা ইকোপার্ক, সারদা পুলিশ একাডেমী, উৎসব পার্ক, হযরত শাহমখদুম রুপোশ (রা) এর মাজার, রাজশাহী কলেজসহ বেশকিছু দর্শনীয় স্থান।








