সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লাল কাঁকড়া || Tour Team BD

ট্যুর টিম বিডি (Tour Team BD): প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুরর্ভাব এড়াতে বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের সকল পর্যটন স্পট। এ জন্য পর্যটকশূণ্য এখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এ সুযোগে সৈকতের অনেকাংশ দখলে নিয়েছে সাগরলতা। ডলফিনেরাও সাগরের নীল জলে জলকেলি খেলছে। সেই সাথে পুরো দলবেধে সৈকতে বিচরণ করছে লাল কাঁকড়ারা। সূর্যের তাপে বালু উত্তপ্ত হয়ে গেলেই দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ।

মাসখানেক আগেও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দাপিয়ে বেড়াতেন। মানুষের পায়ের চাপে সৈতকের বালু হয়ে ওঠে কার্পেটের মতো! এখন জনশূণ্য সৈকতে মনোমুগ্ধকর আলপনা আঁকছে কাঁকড়ার দল। যেন অবচেতন মনের কোনো শিল্পীর ক্যানভাস সদৃশ এ দৃশ্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে সৈকতের লাল কাঁকড়ার মহড়ার অনিন্দ্য সৌন্দর্য মন্ত্রমুগ্ধ করে তুলবে যে কাউকে।

একসময় কক্সবাজার সৈকতে ছিল অসংখ্য খোলামেলা বালিয়াড়ি ও সারিবদ্ধ ঝাউবীথি। ভোরবেলায় বালিয়াড়িতে দেখা মিলতো লাল কাঁকড়ার ঝাঁক। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বালিয়াড়ির অসংখ্য গর্ত থেকে বেরিয়ে আসতো লাখ লাখ কাঁকড়া। এখন সেগুলোতে গড়ে উঠেছে বড় বড় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। তারপরও যতটুকু জায়গা খালি আছে, এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে আগের সেসব দৃশ্য।

সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত দেড় দশকে পর্যটক ও স্থানীয়দের অবাধ বিচরণে বিপন্ন হচ্ছিল এই সৈকতের প্রাণ ও প্রকৃতি। হুমকির মুখে ছিল জীববৈচিত্র্য। এখন সাগরলতা বেড়েছে। লাল কাঁকড়া দেখা যাচ্ছে দশগুণ বেশি। 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটক নিষেধাজ্ঞার সময়ে সৈকতে মানুষের পদচারণা কমে এসেছে। সেই সুযোগে সাগরলতা ও লাল কাঁকড়া ফিরে এসেছে দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। তাই আমরা এটাকে সংরক্ষণের উদ্যোগ হাতে নিচ্ছি।

পরামর্শ:
১) দল বেঁধে গেলে খরচ অনেক কম হবে।
২) ভারী জামা কাপড় না নেওয়াই ভালো। ব্যাগ যগ ছোট হবে ঘুরতে ততো মজা লাগবে।

৩) চলার সময় নিরবতার সাথে পথ চলুন। হৈ চৈ করা থেকে বিরত থাকুন।

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। ভ্রমণ করতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা, শুকনো খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল/জার, কলার খোসা ইত্যাদি ফেলা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকবো। এগুলো আমাদের পরিবেশ দূষণ করার সাথে সাথে আমাদের ভ্রমণের জায়গাগুলোও নষ্ট করছে। সবাইকে অনুরোধ করছি, আমরা আমাদের পরিবেশ দূষণ করবো না। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

আপনিও লিখতে পারেন আমাদের কাছে। আমরা তুলে ধরবো আপনার ভ্রমণ কাহিনী।

Tour Team BD (ট্যুর টিম) আসছে এমন সব স্থানের ভিডিও সহ গল্প নিয়ে। দেখার জন্য সাথেই থাকুন। ভালো লাগলে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Post a Comment

Previous Post Next Post