সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা একটি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তার দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিধানসভার অধিবেশনে গৃহীত শোকপ্রস্তাবে খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অঙ্গন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শোক প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কৃতিত্ব এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে সমগ্র উপমহাদেশের রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার মৃত্যু আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিসরের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
অধিবেশন চলাকালে আইনপ্রণেতারা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। একই সঙ্গে তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
শ্রদ্ধা ও সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে শোকপ্রস্তাবটির একটি আনুষ্ঠানিক অনুলিপি তার নিকটাত্মীয়দের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত একটি দেশের সাবেক সরকারপ্রধানের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনেরই প্রতিফলন। তাদের ধারণা, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সম্মাননা ও স্বীকৃতি দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ায় এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব ও সংগ্রাম বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।